আষাঢ় মাসের এক কাহন কথা

মো. আরশেদ আলী: আষাঢ় মাসে অসাড় বেলা আঁধারে দেয় ডুব, টিনের চালে বৃষ্টির গানে মনে পড়ে তোমায় খুব। জানালার পাশে কদমফুল হাসে সকাল-সন্ধ্যা ধরে, অজানা এক রুদ্ধ আকুতি আছাড়ি-পাছাড়ি করে। সারাদিনের মেঘলা আকাশ লুকিয়ে রাখে রবি, অন্তর আকাশ লুকিয়ে রাখে যেমন তোমার মুখচ্ছবি। হাওড়- বাওড়, পুকুর-ডোবা,উথলে ওঠে জলে, হাঁসের কাতার, কাটে সাঁতার ঘরে ফিরে সাঁঝ হলে।

ঘরের ভেতর মন বসে না বাহির পানে ছুটি, বদুলমিয়া বিড়ি টানে আর বউ তার সেঁকে রুটি। গোয়ালের গরু পোয়াল পালে, বাঁধা থাকে সারাবেলা, জেলেরা সব মাছের আশায় ঘাটেতে ভাসায় ভেলা। অভাবের সংসার চালাতে কৃষক মাথায় রাখে হাত, আর কতোদিন উপোস করে কাটিবে সারা রাত? চালকুমড়োটা পেড়ে বধু চালায় সংসার এক সাঁঝ, ক্ষিপ্ত কৃষক ক্ষুধার জ্বালায় ফেলে রাখে সব কাজ। ছাগলগুলো সব ব্যা ব্যা করে ক্ষুধাপেটে সারাদিন, কাঁঠালের পাতা সামনে পেলে থামায় তাদের বীণ ।

বালক রবি হারিকেন জ্বেলে পড়ার টেবিলে জাগে, সামনের বাড়ির বালিকা ছবিকে আলোতে দারুণ লাগে! বিবক্ষু বুক দুরু দুরু কাঁপে, কল্পনায় ভাসে রবি, বধু বেশে যদি আসতো ঘরে অপরূপা ওই ছবি! গভীর রাতে ঝমঝম বৃষ্টি টিনের চালে পড়ে, টিনের ফুটোয় বৃষ্টির পানি মেঝের ওপর গড়ে । ছবির ধ্যানে মগ্ন রবি, সহসা বুঝিলো পরে, এমন ঘরে বউ হয়ে সে, আসিবে কী করে! পড়াশোনা শেষ করে যদি একটি চাকরি পায়, বাবাকে সে বলবে ডেকে, ছবিকে যে রবি চায়!