আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রেলওয়ে ১০ কোটি টাকার মূল্যের বালু বিক্রি করার অভিযোগ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি মোঃ আশিকুর রহমান রনি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম‍্যান হানিফ মুন্সীর বিরোদ্বে ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে জোড়পুর্বক রেল ওয়ের সরকারি বালু বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব‍্যপারে একাধিক অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের, স্থানিয় সরকার মন্ত্রণালয়ে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনার ঢাকা, আইজিপি পুলিশ হেডকোয়াটার, র‍্যাব হেডকোয়াটার, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মনবাড়ীয়া সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক চিঠি প্রেরন করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সী তার ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে আশুগঞ্জ থানা ও উপজেলা এক নায়কতন্ত্র কায়েম করে নীরিহ মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করছেন। তার নিজস্ব লোকদের নামে থানায় কেউ মামলা করতে এলে তার নির্দেশ ছাড়া কোন মামলা নেওয়া হয় না। সম্প্রতি তিনি তার ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে হাই কোটের নির্দেশ অমান‍্য করে বাংলাদেশ রেলওয়ের মুল‍্যবান প্রায় ১০ (কোটি) টাকার বালু জোড় পুর্বক বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি ক্ষতার দাপটে কোর্ট নির্দেশনা অমান‍্য করে তার লোক জন দিয়ে এই কর্মকান্ড করছেন বলে জানা যায়। চিঠিতে উল্লেখ্য করা হয় বাংলাদেশ পানি উন্নয় বোর্ডের নদী ড্রেজিং করা বালু রেল ওয়ে অধিগ্রাহন করা জায়গায় ডাম্পিং করা হয়। যা নিলামে দরপত্র আহবানের মাধ‍্যমে বিক্রী করবে রেল মন্ত্রনালয়। কিন্তু নিলামের কোন অপেক্ষা না করে তিনি তার পোষ‍্যদের দিয়ে বালু বিক্রী করছেন। অভিযোগ এর সত‍্যতা খুজতে গিয়ে আশুগঞ্জ সাইলো ও রেল ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা স্বরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বিকো দিয়ে প্রায় ১০- ১৫ টি ট্রাক ও ট্রাক্টর বালি লোড করা হচ্ছে।

বিক্রী তত্তাবধান কারি কথিত ম‍্যানেজার জামালে সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান উপজেলা চেয়ারম‍্যান এই বালু ইজারা এনেছেন। বিক্রয় তত্তাবধানে আছেন তার ছেলে জনি মুন্সী ও ভাতিজা রনি মুন্সী। তারা মেসার্স মিজান কন্সট্রাকসন নামে একটি সিলিপ দিয়ে থাকেন। তারা প্রতি ফুট বালু ৪-৫ টাকা দরে বিক্রী করছে। এ ব‍্যপারে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ সম্পদ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের এর সাথে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই বালু বিগত ২ বছর আগে দরপত্র আহবানে মাধ‍্যমে বিক্রী করার কথা ছিল।

কিন্তু মহামান‍্য হাই কোর্টে স্থগিত আদেশ দেওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে দরপত্র আহবাহনের প্রক্রীয়া চলছে। বালু বিক্রীর ব‍্যপারে তিনি বলেন যারা বিক্রী করছে তারা কিছু ভূয়া কাগজ তৈরি করে এই বালু বিক্রী করতে পারে। এই বালু বিক্রি করার জন্য কারো কোনো টেন্ডার বা বিক্রয় আদেশ দেওয়া হয় নাই। আর এই বালু বিক্রীতে যারা জড়ীত তাদের বিরোদ্ধে ফৌজদারি কার্য বিধি অনুযায়ী রেলওয়ের আইনে মামলা করা হবে।

এবিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে সার্কেল মো: মজনুর রহমান বলেন রেল ওয়ে সম্পত্তি কর্তপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিক্রী আইনত ফৌজদারী অপরাধ। এই রকম কোন অপরাধের অভিযোগ যদি পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরোদ্ধে যথাযত ব‍্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন আমি বালু বিক্রি করছি এটা আমার বিরোদ্ধে অপপ্রচার। এই ব‍্যপারে আমি কিছুই জানিনা। আপনারা খোঁজ করে দেখতে পারেন।