আমলায় শহীদ মারফত আলীর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলীর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আমলা অফিস: কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলীর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাসদসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রেসক্লাব, ব্যবসায়ী সংগঠন এক র‌্যালি, মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মারফত আলী স্মৃতি সংসদ আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১ টায় আলোচনা সভায় আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও মারফত আলী স্মৃতি সংসদের সভাপতি প্রফেসর মোঃ মহব্বত হোসেনের সভাপতিত্বে মারফত আলীর স্মৃতি চারন করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মতিন মিয়া।

এসময় তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী ছিলেন মাটি-মানুষের নেতা। দিনমজুর ও কৃষকের নেতা। তিনি ছিলেন সৎ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার অনুপ্রেরণায় এই অ লে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে। সেই সময় মারফত আলী মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণও দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, মারফত আলী একজন শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি এই অ লের কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কলেজ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই কলেজটিকে জাতীয়করন করেছেন। মারফত আলী আমাদের মাঝে চির অমর হয়ে রয়েছে। আমরা আর কোনদিন এই মহান নেতাকে ফিরে পাবো না। তবে তার আদর্শ বুকে ধারন করে একজন প্রকৃত সৎ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগাঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, সদস্য মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মারফত আলীর সহযোদ্ধা সবেত আলী, শহীদ মারফত আলীর সহধর্মীনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আঞ্জুমান আরা মারফ,  যুদ্ধকালীন কমান্ডার আফতাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. চাঁদ আলী, আশকর আলী, মহাম্মদ আলী, লুৎফর রহমান, আফতাব উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন মন্টু, জেলা জাসদের সাংগাঠনিক সম্পাদক অশীত সিংহ রায়, মিরপুর উপজেলা জাসদের সভাপতি মহাম্মদ শরীফ, সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কা ন কুমার, জনসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আতিয়ার রহমান বাবলু প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম।

এর আগে সকালে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজ চত্ত¡রে কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পন করে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহব্বত হোসেনের নেতৃত্বে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এর পরে একে একে পুস্পস্তবক অর্পন করে আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমলা জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আমলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমলা সদরপুর কিন্ডার গার্টেন, নওদা আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাগরখালী শিশু একাডেমী, জনসেবা প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়, মিরপুর উপজেলা জাসদ, আমলা প্রেসক্লাব, আমলা বাজার কমিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। সকালে শহীদ মারফত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন শহীদ মারফত আলীর সহধর্মীনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আঞ্জুমান আরা মারফত, বেলাল হোসেন, আরিফুজ্জামান আরিফসহ আত্মীয়রা।

শহীদ মারফত আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন বড়গাংদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজী হামিদুল হক। উল্লেখ্য-মিরপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান, জাসদ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মারফত আলী ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া-২ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছিলেন।

১৯৯১ সালে ১৭ ফেব্রয়ারি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ইশালমারী মাঠের মধ্যে সন্ত্রাসী চরমপন্থী নেতা সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজের নেতৃত্বে মারফত আলীকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। সেই থেকে এ এলাকার জনগন প্রতিবছর এ দিনটি যথাযথভাবে পালন করে আসছে।