আমতলীতে কালভার্ট নির্মাণে চাঁদা দাবী থানায় অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে পানি নিস্কাষনের কালভার্ট নির্মাণের ঠিকদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবী করায় ৫ জন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাব-কন্টাকটার মোঃ তুহিন মৃধা। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া আবাসন সংলগ্ন রাস্তার উপর বক্স কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণের জন্য আবুল কালাম আজাদ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়।

এ প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে চুক্তিতে কাজ করার জন্য সাব- কন্টাকটার মোঃ তুহিন মৃধা শ্রমিকদের নিয়ে কাজ শুরু করতে পাঠালে গত (১৬ জুন) মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হলদিয়া গ্রামের আফসার মাষ্টারের পুত্র স্থানীয় সন্ত্রাসী মোঃ জাকারিয়া (৩২)নেতৃত্বে মোঃ আফজাল মোল্লা (৩৮), মোঃ সজিব (২৪) ও মোঃ আসাদসহ (৩৫) বেশ কয়েকজন
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একত্রিত হইয়া ঘটনাস্থলে আসিয়া চাঁদার দাবীতে কালভার্টের নির্মাণ কাজ বন্ধ করিয়া দেয়।

উক্ত ঘটনা কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা সাব-কন্টাকটার তুহিন মৃধাকে জানালে সে ঘটনাস্থলে পৌছায়। এসময় মোঃ জাকারিয়া ও তার সাথে থাকা লোকজন সাব-কন্টাকটার তুহিনের কাছে ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা চাঁদা দাবী করেন। সাব-কন্টাকটার তুহিন মৃধা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে প্রথমে গালাগাল ও পরে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেন। তখন তুহিন মৃধার সাথে থাকা জুয়েল রাঢী এর প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা রড দিয়ে তাকেও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ফুলা জখম করে।

এসময় তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম মৃধাকে মুঠোফোনে অবগত করেন। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করেন। এ সংবাদ পেয়ে আমতলী থানা কর্তৃপক্ষ দ্রæত ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করেন।

আজ রবিবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ও ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বচিলা, রামজি, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তির জন্য এসকল এলাকার ভূক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল রামজির হাট সংলগ্ন অফিস বাজার খালের সংযোগস্থলে মোল্লাবাড়ী আবাসনের সামনের রাস্তায় একটি কালভার্ট নির্মাণের।

এ কালভার্টটি নির্মিত হলে এসব গ্রামগুলোতে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না। জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য সরকারীভাবে এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্থানীয় মোঃ রেজাউল করিম মোল্লা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই স্থানে একটি কালভার্ট নির্মাণ
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল। জনসাধারনের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকারীভাবে এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু স্থাণীয় একটি কুচক্রী মহল এ কালভার্ট নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছেন।

এখানে যাতে কালভার্ট নির্মাণ না হয় এজন্য কালভার্টের কাজ করতে আসা সাব-কন্টাকটারের কাছে চাঁদা দাবী করেন। স্থানীয় অহিদ মোল্লা বলেন, কালভার্ট নির্মাণ করতে আসা সাব-কন্টাকটার চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ও তার সাথে থাকা মোঃ জুয়েল রাঢ়ী এর প্রতিবাদ করলে তাকে সন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করেন।

তাদের ডাকচিৎকারে আমিসহ এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে চলে যায়। আমরা এলাকাবাসী কালভার্ট নির্মাণে বাঁধা ও চাঁদা দাবী কারীদের বিচার চাই। এবিষয় অভিযুক্ত আফজাল মোল্লাসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বিকার করেন। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম মৃধা মুঠোফোনে বলেন, জনসাধারনের দীর্ঘদিনের দাবীর
প্রেক্ষিতে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করলে চাঁদার দাবীতে সাব-কন্টাকটার ও তার সাথে থাকা জুয়েল রাঢ়ীকে মারধোর করেছে স্থাণীয় সন্ত্রাসীরা।

বিষয়টি আমি শুনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জকে জানিয়েছি। আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম হাওলাদার মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। যারা সরকারী কাজে বাঁধা ও চাঁদা দাবী করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।