অস্তিত্ব সংকটে নীলফামারী মৃৎশিল্প

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর পালপাড়াগুলো যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক একটি স্বর্ণালী ছবি। জেলার প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য কুটিরে নয়নাভিরাম মৃৎশিল্লীদের বাসস্থান সকলের মনকে পুলকিত করে।
একসময় মৃৎশিল্পের জন্য গ্রামগুলো ছিল বিখ্যাত। কিন্তু কালের বিবর্তন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি।

পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য কেউ কেউ ধরে রাখলেও বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এ শিল্প ও শিল্প কারিগরেরা। নীলমাফামীর সদর, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সৈয়দপুর উপজেলায় বসবাসকারী মৃৎশিল্পীদের
অধিকাংশই মাটি দিয়ে এক সময় বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরি করত। চাহিদা থাকায় তার সারা বছরই এ কাজ করে ভাল উপার্জনও করত। কিন্তু বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে এবং অনুকূল বাজারের অভাবে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।

জেলার বিভিন্ন গ্রামে বসবাসকারী মৃৎশিল্পীদের অধিকাংশই পাল সম্প্রদায়ের। প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় এবং অর্থসামাজিক কারণে মৃৎশিল্পে শ্রেণিভুক্ত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা মৃৎশিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এর স্থান দখল
করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈজসপত্র। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মতো আগ্রহের সঙ্গে নিচ্ছে না। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর।

সে কারণে অনেক পুরনো শিল্পীরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। সৈয়দপুর শহরে ট্রাক টার্মিনাল এলাকার বসবাসকারী সুরঞ্জন পাল বলেন, আগে অন্তত পক্ষে মেলার আয়োজন করা হলে মাটির জিনিসপত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতাম। এতে করে কিছু হলেও আয়-রোজগার হত। কিন্তু সেই সুযোগও বর্তমান বন্ধ। তাই বর্তমানে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। জলঢাকা কৈমারী ইউনিয়নের ববিতা পাল বলেন, আমার স্বামী ও আমি দু’জনে মিলে মাটির জিনিসপত্র তৈরী করতাম।

ছয় মাস আগে স্বামী অসুখে মারা যায়। মাটির জিনিসপত্র এখন বেচা বিক্রিও হয় না। তাই অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেঁচে আছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পীদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারলে মৃৎশিল্পের বিদেশে বাজার তৈরি করা সম্ভব। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃৎশিল্পের প্রসারের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার বলে তিনি জানান।