অপকর্মের সমালোচনা ঠেকাতে মরিয়া মামলাবাজ আ.লীগ নেতা

দৌলতপুর প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এখন আলোচনার শীর্ষে স্থানীয় আ.লীগ নেতা শরীফ উদ্দিন রিমনের নানা রকম হটকারিতা। সম্প্রতি উপজেলার ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব থাকা সময়ে আইনজীবী আ.লীগ নেতা শরীফ উদ্দিন রিমনের দুর্নীতি,অশোভনীয় আচরণ ও নানা অনিয়ম প্রসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে, নিজের দুর্নীতি ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টার অংশ হিসাবে সাংবাদিকদের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করান তিনি।

সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ এবং দুই সংবাদকর্মীকে বিবাদী করে আদালতে এই সংবাদ মিথ্যা দাবি করে মামলা করান তিনি। যদিও খবরটির সত্যতা ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট ভাবে পাওয়া গেছে এমনকি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঘুষের টাকা চেয়ে গালাগাল ও হুমকি দেয়া রিমনের অডিও ক্লিপ। একটি বস্তুনিষ্ঠ খবরের প্রেক্ষিতে ডিজিটাল আইনে করা এই মামলা উদ্বেগের সৃষ্টি করে কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের মধ্যে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ও মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে সাংবাদিক সমাজ।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কলেজটির সভাপতি পদ থেকে বরখাস্ত হয়ে এবং সর্বস্তরের সাংবাদিকের সম্মিলিত প্রতিবাদে বিপাকে পড়লেও পিছু হটেননি শরীফ উদ্দিন রিমন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কখনও ভাগ্নে শাওন কে বাদী করে আবার কখনও নিজে বাদী হয়ে একের পর এক মামলাকেই শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে মামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজের কুকীর্তি ঢাকার ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শরীফ উদ্দিন রিমন। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে শরীফ উদ্দিন রিমনের হটকারিতা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শরীফ উদ্দিন রিমনের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান পাল্টা মামলাও দায়ের করেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল দৌলতপুর টোয়েন্টিফোর-এ শরীফ উদ্দিন রিমনের দুর্নীতির খবর প্রকাশকে কেন্দ্র করে পোর্টালটির সিইও সাংবাদিক তাশরিক সঞ্চয়ের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকেরা তাদের দাবিতে অনঢ় থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে শরীফ উদ্দিন রিমনের কুকীর্তি স্পষ্ট হলে রাজনৈতিক ভাবে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলেও জানা যায়। পক্ষান্তরে তার জনবিচ্ছিন্নতা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে দৌলতপুরের মানুষের কাছে। অন্যদিকে শরীফ উদ্দিন রিমনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতার খবর বর্জন করেছে সাংবাদিকেরা।